শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
নরসিংদী, রংপুর, খুলনা, বাগেরহাট, দিনাজপুর ও খাগড়াছড়িতে জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। প্রার্থীকে অবশ্যই অধুমপায়ী ও স্নাতক ডিগ্রী পাশ হতে হবে। ই-মেইলে আবেদন করুন। 

বদলে গেছে বুড়িগঙ্গার চিত্র

  • আপডেট: শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১.৩১ এএম

শিকড় নিউজ ডেস্ক :

দূষিত পানি আর কচুরিপানায় বদলে গেছে বুড়িগঙ্গার চিত্র।

এই ছবিটি তুলেছেন কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি জসিম হাওলাদার

বুড়িগঙ্গা একসময় ছিল কখনও ভারী বর্ষণ শেষে প্রমত্তা নদী, আবার কখনও ছিল নিঃশব্দে বয়ে চলা শান্ত নদী। রাতের আঁধারে নিঃসঙ্গ নৌকার বুকে টিমিটিম করে জ্বলতো বাতি। নৌকায় আহার করতেন দূর থেকে আসা মাঝি-মাল্লারা। ‘ঢাকা পুরাণ’ গ্রন্থে মীজানুর রহমান ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন, ‘দূর-দুরান্ত থেকে মাল্লাই দোমাল্লাই নৌকা এসে ভিড়তো নারিন্দার পুলের আশেপাশে। এসব নৌকায় বেদেরা নিয়ে আসতো মাটির হাঁড়ি, কলসি ও অন্যান্য তৈজসপত্র থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু। তখন ঘাটজুড়ে চোখে পড়তো বেদেদের নৌকার বহর।’

ঢাকার অনেক সুখ-দুঃখের গল্প ও উপকথা বুড়িগঙ্গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। একইসঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজ-রাজাদের কাহিনি, বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটক ও বণিকদের বিচরণের গল্পও আছে। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে বুড়িগঙ্গাকেন্দ্রিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের চিত্র। এ পালাবদলে বুড়িগঙ্গার রঙ, বেশভূষা বা আচার-আচরণ অনেকটা পরিবর্তন হলেও আজও অবিরাম চোখে ভাসে অতীতের দৃশ্যপট। কবি শামসুর রাহমান জানিয়েছিলেন, পুরনো ঢাকায় তিনি পুরনো ইতিহাসের নিশ্বাস ও দীর্ঘশ্বাস শুনতে পান। দেখতে পান না-দেখা অনেক ঘটনার ছায়ার মিছিল।

বাস্তবিকভাবেই, বুড়িগঙ্গার কূল যেন ছাপিয়ে উঠেছে ইতিহাস। এ ইতিহাস আমাদের ঘোরগ্রস্ত করে। এখানে বিচরণকারীদের পদচিহ্ন শহরের পদে পদে পড়ে আছে। অদেখা মোগল বা ব্রিটিশ শাসকদের আনাগোনা, নবাবদের রাজকীয় দরবার, সৈন্যদের কুচকাওয়াজ এসব আজও যেন চোখে ভাসে। ১৯২৬ সালে ঢাকায় এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তখন বুড়িগঙ্গার বুকেই ‘তুরাগ’ নামক হাউজ বোটে রাতযাপন করেন তিনি।

১৯২০-এর দশকে বুড়িগঙ্গার তীরে নর্থব্রুক হল। ছবিটি ঢাকা কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে১৯২০-এর দশকে বুড়িগঙ্গার তীরে নর্থব্রুক হল। ছবিটি ঢাকা কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছেবুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে নর্থব্রুক হল, রূপলাল হাউজ, আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লা ইত্যাদি তো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজও। লালবাগ কেল্লা এখন নদী থেকে খানিকটা দূরে মনে হলেও আগে নদী ঘেষেই ছিল। ১৮৪০ সালে সরকারি আদেশে প্রকাশিত ‘অ্যা স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্স অব ঢাকা’ গ্রন্থে জেমস টেলর লিখেছেন, ‘শুরুর দিকে লালবাগ কেল্লা বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন ছিল। এখন তা সরে গেছে অনেকটা।’

শেয়ার করুন

এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০১৯  শিকড়নিউজ২৪.কম সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত |
Developed by POPCORN
themesbazshikornew23234
© ২০১৯  শিকড়নিউজ২৪.কম সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত |
Theme Download From ThemesBazar.Com