শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১২ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
নরসিংদী, রংপুর, খুলনা, বাগেরহাট, দিনাজপুর ও খাগড়াছড়িতে জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। প্রার্থীকে অবশ্যই অধুমপায়ী ও স্নাতক ডিগ্রী পাশ হতে হবে। ই-মেইলে আবেদন করুন। 

শোকের মাসে ব্যানার-পোস্টারে আত্মপ্রচারবিহীন যুবলীগ

  • আপডেট: সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১, ১.২২ পিএম
স্টাফ রিপোর্টার, শিকড় নিউজ :
আগের বছরগুলোতে শোকের মাসে রাজধানীসহ সারাদেশের অলিগলি-পথঘাটে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের সমর্থকরাও আত্মপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবসের চিত্র একেবারেই উল্টো।
গতকাল রোববার সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডে এমন চিত্র দেখা গেছে। দলীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শোকের মাস আগস্টে গোটা জাতির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো, যার মধ্যে রয়েছে যুবলীগও। তবে শোক দিবস ঘিরে তৈরি করা অনেক ব্যানার-পোস্টারই ছেয়ে থাকতে দেখা যায় সংগঠনের নেতাদের মুখশ্রীতে। শোক পালনের ছদ্মবেশে তা যেন পরিণত হয় আত্মপ্রচারের হাতিয়ারে। তার জন্য সমালোচনার তীরেও বিদ্ধ হতে হয় বৈকি।
তবে এ বছর যুবলীগের ক্ষেত্রে সেই চিত্রটি পাল্টে গেছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আত্মপ্রচারের সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। এবারে যুবলীগ কিংবা সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তৈরি করা কোনো ব্যানার বা পোস্টারেই নেই কোনো নেতার ছবি। বঙ্গবন্ধুসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের শহিদদের ছবি দিয়েই শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে ব্যানার- পোস্টারে। আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, সাধারণত বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শোক দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস এলেই আত্মপ্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন পাড়া-মহল্লার, ওয়ার্ড, থানা কমিটির নেতারা। জাতির জনক ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ছবির তুলনায় নিজেদের বড় বড় ছবি ব্যবহার করে বানানো সেসব ব্যানার-পোস্টারে ছবি ব্যবহারের নির্দেশনা না মেনেই আত্মপ্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তারা।
কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মপ্রচারণা ঠেকাতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছবি ব্যবহারের উপর সংযত হতে একটি নির্দেশনা জারি করা আছে সেই ২০১৫ সালে। নির্দেশনায় বলা রয়েছে, পোস্টার-ব্যানার, বিলবোর্ড ও লিফলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছাড়া কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। ওই নির্দেশনার পরও গত কয়েক বছরে থামেনি আত্মপ্রচার।
তাই গত ৮ আগস্ট যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যানার-পোস্টার সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেয়। সেখানে বলা হয়, যেকোনো ধরনের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংগঠনের চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ ও প্রচার বাঞ্ছনীয় নয়। এবার এসব নির্দেশনা মেনেই ১৫ আগস্টে দলীয় ও ব্যাক্তিগত ব্যানার-পোস্টার করেছে যুবলীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ প্রতিটি ইউনিটের দলীয় ব্যানারে যারা ১৫ আগস্টে শহিদ হয়েছেন, তাদের ছবি দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কোনো ব্যানার ও পোস্টারে সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদকের বা কোনো ইউনিট প্রধানের ছবি ব্যবহার করা হয়নি।
এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলাসহ অন্য কোনো ইউনিটের পোস্টারেও সংস্লিষ্ট সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের ছবি ছাড়াই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত ব্যানারেও তারা নিজেদের ছবি ব্যবহার করেননি।
বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ব্যানার-পোস্টারগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজল নাঈম ১৫ আগস্ট কালো রাতে নিহত সহ শহিদের ছবি দিয়ে পোস্টারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সেখানে দলীয় কোনো নেতার ছবি নেই।
কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো.আব্দুল মুকিত চৌধুরীও কেবল ১৫ আগস্ট নিহত শহিদদের ছবি দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উপ দফতর সম্পাদক খন্দকার আরিফ উজ জামান এবং প্রচার সম্পাদক আরমান হকসহ বেশ কয়েকজন শোক দিবসে ব্যানার করেছেন। তাদের পাশাপাশি ৬৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নীরু আমিন নুরুল, ৬৩নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ইমরান উদ্দিন মিয়া, ৬৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক-এস এম সোহেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রাজীব, ৬৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রাসেল ভূঁইয়া ও ৬৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান পলিন সহ আরো বেশ কিছু ওয়ার্ড নেতারা শোক দিবসে পোস্টা-ব্যানার করেছেন। সেখানে (যুবলীগ নেতারা) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির ছবি জানিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার যুবলীগ নেতারাও আত্মপ্রচারণার বাইরে গিয়েই শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। চাঁদপুর জেলা যুবলীগের আহবায়ক মিজানুর রহমান কালু ভুইয়া, কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আনিছুর রহমান খন্দকার চাঁদ, হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের উপ-দফতর সম্পাদক ধ্রুব জ্যোতি দাশ টিটু ব্যানার করেছেন শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে। সেখানে নেই অন্য কারও ছবি।
এ বিষয়ে কথা হয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এর সাথে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিনের চলে আসা অচলায়তন ভেঙে যুবলীগকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছি। ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টারের দিকে আমরা বিশেষ নজর রাখছি। এরই মধ্যে আমরা সারাদেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা দিয়েছি।
নির্দেশনার কথা জানিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার করার সময় অবশ্যই প্রটোকল অনুযায়ী করতে হবে।আগস্ট মাসের ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারে শহিদদের ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। তবে সংগঠনের লোগো, নাম, পদবী ব্যবহার করতে পারবেন। এবার এই নির্দেশনা মেনেই সবাই ব্যানার-পোস্টার করেছেন। কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএন/সফিক

শেয়ার করুন

এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০১৯  শিকড়নিউজ২৪.কম সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত |
Developed by POPCORN
themesbazshikornew23234
© ২০১৯  শিকড়নিউজ২৪.কম সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত |
Theme Download From ThemesBazar.Com